লিওনেল মেসি কোন জায়গায় এগিয়ে জানালেন মাচেরানো। ছবি: এএফপিকারও চোখে তিনি সময়ের সেরা। তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি গত এক যুগে বিশ্বসেরা দুই ফুটবলারের একজন যে লিওনেল মেসি, তা নিয়ে সম্ভবত দ্বিমত হবে না। নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মঞ্চে আসার এই সময়েও মেসি এখনো যেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল।কারও কারও চোখে তো মেসি বর্তমান ছাপিয়ে সর্বকালেরই সেরাদের একজন। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে বর্ণনায় বিশেষণ খুঁজে হয়রান কেউ কেউ তাঁকে আবার দিয়েছেন ‘ভিনগ্রহের ফুটবলার’ উপমা।
কিন্তু যাঁদের কাছে মেসি সেরা, তাঁদের চোখে কোন জায়গায় মেসি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে? সেটির বিশ্লেষণ এবার করেছেন ক্লাব ও জাতীয় দলে তাঁর সাবেক সতীর্থ হাভিয়ের মাচেরানো। এখন আর্জেন্টিনার ক্লাব এস্তুদিয়ান্তেসে খেলা মাচেরানোর চোখে, চোখের পলকে মেসির সিদ্ধান্ত নেওয়া আর সেটি কার্যকর করার ক্ষমতাই তাঁকে অনন্য করে রাখে।
মেসি গোল করতে জানেন, সেটি কখনো কখনো কখনো কখনো প্রতিপক্ষের চার-পাঁচজন কাটানোর পরই করেন। মেসি খেলা গড়ে দেন, অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং আর প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ঘোল খাওয়ানোর পর সতীর্থের জন্য বাড়ানো তাঁর থ্রু ধাঁধিয়ে দেয় চোখ...মেসির ফুটবলের একেকটি দিকের প্রশংসা একেক সময় একেক জন করেছেন।
বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অনেক দিন খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে মাচেরানো গেলেন প্রিয় বন্ধু ‘লিও’র ফুটবলের আরও খুঁটিনাটি বিশ্লেষণে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম সিয়েলোস্পোর্তে বলেছেন, ‘বেশির ভাগ ভালো খেলোয়াড়ের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাঁরা কখন কী করতে হবে সে সিদ্ধান্তটা অন্যদের চেয়ে ভালো নিতে পারেন। কিন্তু এঁদের বেশির ভাগই মাথায় যেটা থাকে, সেটা ঠিকভাবে কার্যকর করতে পারেন না। কেউ কেউ হয়তো কাজে লাগাতে পারেন ভালোভাবে, কিন্তু সিদ্ধান্তটা বেশির ভাগ সময় ভালো হয় না। কিন্তু ও দুটিই খুব ভালোভাবে করে, আর সেটা এত দ্রুতগতিতে! এ কারণেই ও আলাদা।’
বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অনেক দিন খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে মাচেরানো গেলেন প্রিয় বন্ধু ‘লিও’র ফুটবলের আরও খুঁটিনাটি বিশ্লেষণে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম সিয়েলোস্পোর্তে বলেছেন, ‘বেশির ভাগ ভালো খেলোয়াড়ের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাঁরা কখন কী করতে হবে সে সিদ্ধান্তটা অন্যদের চেয়ে ভালো নিতে পারেন। কিন্তু এঁদের বেশির ভাগই মাথায় যেটা থাকে, সেটা ঠিকভাবে কার্যকর করতে পারেন না। কেউ কেউ হয়তো কাজে লাগাতে পারেন ভালোভাবে, কিন্তু সিদ্ধান্তটা বেশির ভাগ সময় ভালো হয় না। কিন্তু ও দুটিই খুব ভালোভাবে করে, আর সেটা এত দ্রুতগতিতে! এ কারণেই ও আলাদা।’
তবে শুরুর দিনগুলোর ঝাঁকড়া চুলের মেসির সঙ্গে এখনকার মেসির একটা পার্থক্য চোখে পড়ে। সেটি শুধু চুলে বা গায়ে আঁকা অনেক ট্যাটুতে নয়। মাঠে এখন আগের চেয়ে অনেক কম দৌড়ান মেসি। এ নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। হ্যাঁ, এখন তো আর মেসি সেই ১৯-২০ বছরের তরুণ বা ২৩-২৪ বছরের যুবক নন, আর দুই মাস পর কাটবেন ৩৩তম জন্মদিনের কেক। ফিটনেস, দৌড়ের গতি...সবকিছুতে একটু ভাটা পড়ারই কথা। তবে বয়সের সঙ্গে যা বেড়েছে, সেটি মেসির অভিজ্ঞতা আর কখন কী করতে হবে সে পরিণতিবোধ।
মাচেরানোর বিশ্লেষণ, ‘ম্যাচের কোন পরিস্থিতিতে বেশি দৌড়াতে হবে, কখন হেঁটে হেঁটেও খেলা যায়, সেটা ও খুব ভালো জানে। তাতে যেটা হয়, ও ম্যাচে সাত-আট বা দশটা গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারে। ম্যাচে দাপুটে হয়ে ওঠার ওর পদ্ধতি এটাই। সাধারণত ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু লিওর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। ও ম্যাচের গতি ঠিক করে দেয়। সে কারণেই ও অন্য গ্রহের।’
সূত্র দৈনিক প্রথম আলো
Post a Comment