‘বাসভাড়া ৭৭৬ টাকা, নিল ১২৫০’
বেসরকারি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন রংপুরের পীরগঞ্জের মো. ইউসুফ আলী। ঈদে ছুটি পাবেন কি না, তা নিশ্চিত ছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি ঈদের ছুটি পান। তাই আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে আসেন। হানিফ ও শ্যামলীর কাউন্টারে টিকিট পাননি। এরপর আহাদ এন্টারপ্রাইজে এসে টিকিট পান। তাঁর কাছ থেকে টিকিটের দাম রেখেছে ১ হাজার ২৫০ টাকা।
ইউসুফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাসভাড়া ৭৭৬ টাকা। আমার কাছে নিল ১ হাজার ২৫০ টাকা। তারা এর কম নেবে না। কী করব, বাড়ি তো যাওয়া লাগবে।’
আহাদ এন্টারপ্রাইজের সামনেই ইউসুফ আলী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু কাউন্টার ছিল বন্ধ। দুপুরেও দেখা যায়, কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। তবে কাউন্টারে টাঙানো ভাড়া তালিকায় দেখা যায়, ঢাকা থেকে রংপুরের ভাড়া ৭৭৬ টাকা।
ইউসুফ আলী বলেন, গত শুক্রবার তাঁর স্ত্রী ও সন্তান গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। শ্যামলী বাসে সেদিন তাঁর স্ত্রী ৭০০ টাকা ভাড়া দিয়ে রংপুরে গেছেন। আজ সেখানে আমাকে সাড়ে ৫০০ টাকা বাড়তি দিয়ে যেতে হচ্ছে।
একটি বই বাঁধাই কারখানায় চাকরি করেন কুড়িগ্রামের কবির হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, রংপুরগামী শ্যামলী পরিবহন তাঁর কাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা চেয়েছে।
বাড়তি টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন কবির হোসেন। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে আটটার আগেই তিনি বাস টার্মিনালে আসেন। এসে দেখেন, কুড়িগ্রামের হক পরিবহনের গাড়ি নেই। তারপর লোকাল বাসের খোঁজ করেন, কিন্তু পাননি। ১ হাজার ৩০০ টাকা চাওয়ায় তিনি আর শ্যামলী পরিবহনের টিকিট কেনেননি।
বেলা একটায়ও বাস টার্মিনালে বসে থাকতে দেখা যায় কবির হোসেনকে। তিনি বলেন, নামাজের পর দেখি একটু কম দামে টিকিট পাওয়া যায় কি না। না পাওয়া গেলে বেশি টাকা লাগলেও যাওয়া লাগবে।
গাবতলী বাস টার্মিনালে শ্যামলী পরিবহনের রংপুরগামী বাসের বেশ কিছু টিকিট কাউন্টার রয়েছে। একটি কাউন্টারের মাস্টার মো. নাসির বলেন, ‘আমাদের রংপুরের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এখন কোনো টিকিটই বিক্রি করছি না।’
দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনালে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় তারা শ্যামলী পরিবহনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে।
ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে আজ সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সেলফি পরিবহন ১৫০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা করে নিচ্ছে। প্রশাসনের সামনে তারা এ কাজ করছে। বাস কাউন্টার থেকে বলছে, সার্জেন্টকে তারা গাড়িপ্রতি এক হাজার টাকা ঘুষ দিচ্ছে। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দু-একটা ঘটনা হয়তো ঘটছে। আমাদের লোক সার্বক্ষণিক দায়িত্বে আছে। এ রকম কিছু হলে আমরা অবশ্যই দেখব।’
