মানুষ বড় কষ্টে আছে

সেদিন বিকেলে জরুরি কাজে বাসার বাইরে যেতে হয়েছিল। রাজধানীর আশকোনার বাসা থেকে বেরোতেই দুজন পথশিশু এসে সামনে দাঁড়াল। করুণ স্বরে বলল, ‘মামা, সারা দিন কিছু খাই নাই। ৩০টা ট্যাকা দিবেন? দুজনে ভাত খাইতাম।’ টাকা দিলাম। পাশেই কেউ একজন খাবার বিক্রি করছিলেন। দুজনে সেখান থেকে এক বাটিতে ঘন ডাল আর ভাত এনে আমাকে দেখাল। দৃশ্যটা দেখে মর্মাহত হলাম। জরুরি কাজ শেষে বাসায় ফিরেও মন খারাপ থেকেই গেল।


বাসায় আমার স্ত্রী সাদিয়াকে ঘটনাটি বললাম। সে বলল, হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ বলেই খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছে না ওরা। আগ বাড়িয়ে সে-ই প্রস্তাব দিল রান্না করে কিছু মানুষকে খাওয়ানোর। পরদিন সাধ্যমতো ৩৫ প্যাকেট খাবার প্রস্তুত করলাম। করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বেরিয়ে পড়লাম। চেষ্টা করলাম নিরাপত্তা পোশাক পরে নিজেকে যতটা সুরক্ষিত রাখা যায়। সেগুলো নিয়ে গিয়ে পথশিশুদের মধ্যে বিতরণ করলাম। কয়েকজনকে বললাম রাতে কী খাবে? বলল, ‘যদি কেউ দিয়ে যায় খাব, আর না হয় না খেয়েই ঘুমাব।’

খাবার বিতরণের সেই ছবি আমার ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করি, অনুপ্রাণিত হয়ে সহযোগিতা করার জন্য আগ্রহী হলেন পরিচিত অনেকেই। সেই সহযোগিতায় চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আলাদা ব্যাগে ভরলাম। সেই প্যাকেট নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম অসহায় মানুষগুলোর জন্য।
এমন অনেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো, যাঁদের কষ্ট মনকে নাড়া দিল। যেমন রিকশাচালক হামিদ ভাই। ৪৫ বছর বয়সী হামিদ বললেন, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। বাড়িতে পরিবারকে খরচ পাঠাতে হয়, ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে, তাদেরও বাড়তি খরচ আছে। কিন্তু এখন দিন শেষে রিকশার মালিককে ভাড়া বাবদ টাকা জমা দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদেই ফেললেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে কী করবেন, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। আগে যেখানে ৬০০-৭০০ টাকা আয় করতেন, এখন প্রতিদিন পাচ্ছেন মাত্র ১০০-১৫০ টাকা।
ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে ‘বিড়ালের মা’ নামে একজন থাকেন। বিড়াল–কুকুর নিয়েই বসবাস করেন বলে তাঁর এমন নাম। চেয়েচিন্তে নিজে যা পান, সেখান থেকে বিড়াল–কুকুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন, সেটাও আর ঠিকমতো পারছেন না, হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।
মানুষের এমন চিত্র দেখে নিজেকে আর ঘরে রাখি কীভাবে, তাই প্রতিদিন বেরিয়ে পড়ি খাবার বিতরণ করতে।
নিউজের সূত্রঃ প্রথম আলো।

Post a Comment

[blogger]

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Theme images by RBFried. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget