ববিতা। ছবি: সংগৃহীত‘আজ কিংবা কাল অথবা সামনের কোনো একদিন করোনাভাইরাস ঠিকই নিয়ন্ত্রণে আসবে। পৃথিবী আগের মতো ব্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু তত দিনে অর্থনৈতিকভাবে পুরো পৃথিবী একটা গভীর সংকটের মধ্যে পড়ে যাবে।’ এটি ভেবেই ভীষণ চিন্তিত বলে জানালেন অভিনয়শিল্পী ববিতা। গত শনিবার দুপুরে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হলে এমনটাই জানালেন গুণী এই অভিনয়শিল্পী।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে ববিতার চিন্তা তাঁর পরিবারের মানুষদের নিয়েও। একমাত্র ছেলে অনীক কানাডায় থাকেন। বড় বোন সুচন্দা ছেলে অপু রায়হানকে নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। তিন ভাইয়ের মধ্যে দুজন যুক্তরাষ্ট্রে আর একজন অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। ছোট বোন চস্পা দেশে থাকলেও তিনিও বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে সবাইকে নিয়ে ভীষণ চিন্তার মধ্যে ঢাকার গুলশানের বাড়িতে দিন কাটছে ববিতার।
ববিতা। ছবি: সংগৃহীতববিতা জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট লিটন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। তাঁর পরে যিনি বড়, তিনি থাকেন হাইড পার্ক এবং সবচেয়ে বড় ভাই থাকেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। ববিতা বলেন, ‘সবাই বাইরে এই সময়ে। এমন এক সময়, কেউ ঘর থেকে বেরও হতে পারছি না। এসব ভেবে মনটা যেন কেমন একটু বেশিই অস্থির লাগছে। সব সময় টেলিভিশনের খবর দেখছি। চারদিকে কী হচ্ছে, সেই খবর নিচ্ছি। সাবধান থাকার চেষ্টা করছি।’একা থাকলেও ববিতার বাড়িটি দেখার জন্য কয়েকজন সহকারী আছেন। তাঁরা কতটা নিরাপদ জীবনের মধ্যে আছেন, জানতে চাইলে ববিতা বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ার পর আমি ওদেরকে ব্রিফ করছি। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে প্রতিনিয়ত সচেতন করছি। করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে জানাচ্ছি। আমার বাড়িতে কয়েকজন বাইরে থেকে এসে কাজকর্ম করতেন, ওদেরকে আমি আমার বাড়িতেই থাকার ব্যবস্থা করেছি। থাকা-খাওয়া সবই নিশ্চিত করেছি। পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের ব্যাপারে বলছি। তাঁদের বলেছি, “তোমরা নিরাপদ থাকো, আমাদেরও নিরাপদে রাখো।”’
ববিতা আরও বলেন, ‘বাড়ির ভেতের কারও অকারণে বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। জরুরি কোনো প্রয়োজনে যদি যেতেই হয়, তাহলে পর্যাপ্ত প্রতিরোধব্যবস্থা নিয়ে যাবে। স্যান্ডেল, জুতা নিয়ে ঢোকা যাবে না। সব আমিই দেখভাল করছি। তবে এটাও ঠিক, ভাগ্যে যা আছে তা–ই হবে ভেবে নিয়েছি। এটা এমন একটা ভাইরাস, যা চোখেও দেখি না, এই অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করা তো সম্ভব নয়, শুধু নিজের সাবধানতা ছাড়া।’
ববিতা। ছবি: সংগৃহীততবে করোনা–পরবর্তী সময় নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ববিতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের আসলে কিছুই করার নেই। যা হবার হবে। হয়তো একদিন এটা কমে আসবে, কিন্তু এটার পরবর্তী অবস্থার ভয়াবহতা ভেবে আঁতকে উঠি। পরের অবস্থা মহামারির চেয়েও ভয়ংকর। অর্থনীতি গভীর সংকটের মধ্যে পড়বে। সারা পৃথিবী অর্থনৈতিকভাবে নাজুক হয়ে পড়বে। আমরা যদি আমাদের দেশ নিয়ে ভালো থাকি, তা–ও হবে না। বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের অন্য সবকিছু অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ওসব ভেবেই একটু বেশি ভয় লাগছে।’
একমাত্র ছেলে কানাডার ওয়াটারলুতে থাকেন। ছেলের কাছে সেখানকার খবর শুনেও চিন্তিত মা ববিতা। তিনি বলেন, ‘কানাডা যথেষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা নিয়েছে। অনীক বলল, কয়েক দিন ধরে তাঁর আশপাশের কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। সবার সঙ্গে ফোনে কথা বলি, তারপরও মন আর মানে না। আমি ভেবেছিলাম, মে-জুন মাসে কানাডায় যাব, ছেলের সঙ্গে কয়েকটা মাস থেকে আসব। এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। কবে যে পৃথিবী ঠিক হবে। যোগাযোগব্যবস্থা যে কবে স্বাভাবিক হবে!’
ছেলে অনীকের সঙ্গে ববিতা। ছবি: সংগৃহীতঘরবন্দী জীবন কেমন কাটছে জানতে চাইলে ববিতা বলেন, ‘সকালে উঠেই ঘরের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছি। ছাদে গিয়েও হাঁটি। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করছি। আমার বাড়িতে প্রচুর গাছপালা আছে, এগুলোর পরিচর্যা করছি। এরপর সময় পেলে ল্যাপটপ হাতে নিয়ে ছবি দেখছি। সত্যজিৎ রায়ের ছবিই দেখছি বেশি। চম্পার সঙ্গে কথা বলছি। সবাই লকডাউন হয়ে আছি। জীবনটা কেমন যেন হয়ে গেল। সামনে আরও কী হবে, তা জানি না। তারপরও নামাজ পড়ে দোয়া করছি, সারা পৃথিবীর মানুষকে যেন সৃষ্টিকর্তা এই মহামারি থেকে মুক্তি দেন।’
অনীক গত বছরের ডিসেম্বরে দুই সপ্তাহের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। বন্ধুরাসহ মায়ের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন কক্সবাজারেও। কথা বলার একেবারে শেষ দিকটায় সে সময়কার স্মৃতিচারণাও করলেন। বললেন, ‘যতই দিন যাচ্ছে, উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা বাড়ছে। কী এমন দুর্যোগ পৃথিবীতে এল, ইচ্ছা করলেও ছেলের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারছি না, আবার চাইলে ছেলেও এ মুহূর্তে আমার কাছে আসতে পারছে না।’
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
Click to visitLABIB IT SOLUTION থানা রোড, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ। মোবাইল: ০১৭২৭১৭৮২৮৫, ০১৯৭৭১৭৮২৮৫ গুগলের নিজস্ব প্রযক্তিতে ফ্রি হোস্টিং সেবা ব্যবহার করে কম খরচে যে কোন ধরনের উন্নতমানের ওয়েব সাই্ট তৈরি করা হয়, ডাটাবেস প্রোগ্রামিং তৈরি করা হয় এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করা হয়।
Post a Comment