আজকের শীর্ষ খবর ডেস্ক:

আমি ছোট বেলায় যখন শিশু শ্রেনীতে পড়ি তখন জানতাম না মুক্তা আমাদেরই বংশের আমারই চাচাত ভাইয়ের ছেলে। তাই ছোট বেলায় বন্ধুকেতো আপনি করে বলতে হবে, তখন থেকে প্রিয় বন্ধু মুক্তাকে আপনি বলে ডাকতাম। সেই ডাক আর কোন দিনও পরিবর্তন হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ৪২ বছর এভাবেই ডাকতাম। ছোট বেলায় যখন তরনী আটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন আব্দুল্লা কাকাদের পুকুর পাড়ে ক্লাস শুরুর আগে প্রতিদিন গল্প করতাম, সেখানে বসতে বসতে ঘাস গুলো শুকিয়ে গিয়েছিল। এভাবে ০৫ বছর কেটে যায়। মনে পড়ে এক দিন বাটিকামারী উচ্চ বিদ্যালয়ে গল্প করতে করতে রাত হয়ে গেল। তার পর সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা একে অপরকে ছেড়ে যাব না গল্প করে রাত কাটিয়ে দিব, তাই কনকনে শীতেও একটি শার্ট পড়ে ব্যাঞ্চের মধ্যে সারা রাত গল্প করলাম। আমার মনে পড়ে যখন আমি সম্ভবত দশম শ্রেণীতে পড়ি তখন ছায়াছন্দ নামে বিটিবিতে একটি জন প্রিয় গানের অনুষ্ঠান হতো কি বারে হতো তা আমার সঠিক মনে পড়ে না, তবে এটা মনে আছে যে, আমি আর মুক্তা ছায়া ছন্দ দেখতে হালিম কাকাদের বাড়িতে যাই কিন্তু ছায়াছন্দ সে দিন আর হলো না। আমরা একে অপরকে নিজ বাড়িতে এগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু ব্যর্থ হলাম। আমরা বার বার একে অপরকে এগিয়ে দিতে গিয়ে ০৭ বার তরনীআটিা আর চাঁনপুর যাওয়া হল কিন্তু আমাদের কথা, গল্প কিছুই শেষ হল না। পরে পরিবারের অভিবাবক বকবে সেই ভয়ে তরনী আটা এবং চানপুরের মাঝামাঝি এসে দুজন দুদিকে চলে গেলাম। আমি ও মুক্তা সরিয়াবাড়ি থেকে বই কিনতে গিয়ে সিনেমা দেখে ট্রেন না পেয়ে হেটে বাড়িতে আসছিলাম। আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন ট্রেন না পাওয়াতে আমাদের দুঃখ হয়েছিল, কিন্তু না সেদিন ট্রেন না পেয়ে আমরা খুশি হয়ে ছিলাম এই কারনে আমাদের গল্পে কোন শব্দ দুষন হবে না। আমি মুক্তা, তাজ,শাহীন সিনেমা দেখতে গিয়ে ছিলাম সিরাজগঞ্জ সেখানে দিল সিনেমা দেখেছিলাম আজ যেন ঐ সব সিনেমার নাম গান সবই সারা জীবনের কষ্ট। আমার মনে পড়ে আমার ক্লাসমেট ও ফুফাত বোন শিউলি এর ছোট বোন সীমার বিয়েতে মুক্তা একটি গান বার বার বাজিয়ে ছিল। যখন থামবে কোলা হল ঘুমে নিঝুম রাতে ঠিক সেই গানটি মুক্তার মুত্যর পড় মুক্তার ফেসবুক থেকে আমি যখন শুনলাম জানিনা কি আনন্দ আমি পেলাম আমার চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়ছে এর যখন বাসায় গেলাম বাসায় ডিম সিদ্ধ করতে দিলাম কখনযে আগুনের তাপে পানি শেষ হয়ে পাতিলও পুড়ে যাচ্ছে তা আর আমার খেয়াল নেই। তাই মুক্তাকে হারানোর ব্যাথা আমার জীবন থেকে কখনো শেষ হবে না। মুক্তা হল এই সেই বন্ধু যার সাথে ৪২ বছরেও কোন মতের অমিল হয়নি আমার, ঝগড়াতো দূরের কথা এমনকি ছোট বেলায় খেলতে গিয়েও ঝগড়া হয়নি। আমি আমার এই পত্রিকাটি শুরুর পর থেকে অনেক লেখেছি, অনেকের লেখা ছাপিয়েছি কিন্তু আজকের লেখাটি সব লেখা থেকে কেন ভিন্ন এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো দিবে কিন্তু কোন সমাধান নেই........উল্লেখ্য আমার বন্ধু গত ১৮.০৫.২০২০ সোমবার সন্ধ্যা ৬.০০ টার সময় হ্রিদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
সবাই তর রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করবেন। তথ্য সূত্র: মোঃ সোলায়মান তরফদার, সম্পাদক আজকের শীর্ষ খবর
|
Post a Comment
হৃদয়স্পর্শী। মানুষে মানুষে এত বৈচিত্র্য, কিন্তু খুব গভীরে কোথায় যেন সবাই একই সুরে বাঁধা, সবাই একই রঙে রঙিন। সেই সুরটি বেদনার। সেই রঙটি নীল।