ঢেঁড়স জনপ্রিয় একটি সবজির নাম। আমাদের দেশে ব্যাপক আকারে ঢেঁড়স আবাদ হয়ে থাকে।
ঢেঁড়স যদিও গ্রীষ্মকালীন সবজি তারপরও এখন সারাবছর ঢেঁড়স আবাদ হয়।শীতের শেষের দিকে আগাম ঢেঁড়স বাজারে আসতে শুরু করে।
আগাম ঢেঁড়স আবাদে ফলন কিছুটা কম আসে কিন্তু এ সময় বাজার অনেক বেশি থাকে মানে
ঢেঁড়সের মুল্য অনেক বেশি পাওয়া যায়।
আগাম চাষের জন্য হাইব্রিড ঢেঁড়সের বিকল্প নেই তাই দিন দিন কৃষকের কাছে হাইব্রিড ঢেঁড়স অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ঢেঁড়স আবাদের জন্য উঁচু(যেখানে পানি জমতে পারে না ) বেলে দোআঁশ মাটি খুবই উপযুক্ত।এছাড়া বেলে অথবা এঁটেল মাটিতেও ঢেঁড়স আবাদ করা যায় তবে বেলে মাটিতে আবাদ করলে অবশ্যই জমিতে বেশি পরিমাণ জৈব সার দিতে হবে।
জমিতে প্রথমে আগাছা পরিষ্কার করে ৪-৫ বার চাষ দিয়ে জমি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।আগাম চাষে বীজ বপনের পূর্বে বা লাঙ্গল দেয়ার সময় প্রতি শতক জমিতে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ কেজি গোবর সার বা জৈব সার দিতে হবে (অতিরিক্ত জৈব সার ব্যবহারে ফসলের ক্ষতি হতে পারে),দানা ফসফেট এক থেকে দুই কেজি,অনুখাদ্য প্রায় ১০০ গ্রাম দিতে হবে।
শীতকালে বীজের পরিমাণ একটু বেশি দরকার হয় প্রতি দনে (২৪ শতাংশ) জমিতে ৮০০ গ্রাম থেকে ১০০০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হয়।
বীজ বপনের পূর্বে বীজগুলো এক থেকে দুই ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে ঠান্ডা করে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে এতে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বেশি হয়।
বীজ থেকে বীজ এর দূরত্ব ১০ ইঞ্চি এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ১৫ থেকে ১৮ ইঞ্চি রেখে বীজ বপন করতে হয়।অতিরিক্ত শীত পড়ার পূর্বে আগাম ঢেঁড়স আবাদ করতে হয় কারন তীব্র শীতে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কমে যায়।সাধারণত আমাদের দেশে অগ্রাহায়ন মাসে আগাম বীজ বপন করতে হয়।
জমিতে রস যদি না থাকে তবে প্রতি সপ্তাহ বা ১০ দিন পরপর পানি দিতে হবে।আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবেে এবং কোদাল দিয়ে মাটি আলগা করে দিতে হবে।
গাছের বয়স ৩০ দিন হলে প্রতি শতকে জমিতে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম সুফলা প্রয়োগ করতে হবে এবং ফল সংগ্রহের পর থেকে প্রতি মাসে এভাবে সুফলা প্রয়োগ করতে হবে,এতে করে দীর্ঘদিন যাবত পর্যাপ্ত পরিমাণ ফল পাওয়া যাবে।
আগাম ঢেঁড়স চাষে সাদা মাছি ও সবুজ মাছি আক্রমণ হয় সবচেয়ে বেশি ।এসব মাছি পাতা ও ডগার রস খেয়ে গাছকে দুর্বল করে দেয় এবং গাছের পাতাগুলো কুঁকড়ে যেতে থাকে।
তবে খুব সহজে মাছির আক্রমণ দমন করা যায় ।প্রতি সপ্তাহে সাদা মাছি ও সবুজ মাছির পাউডার কীটনাশক ব্যবহার করলে আক্রমণ রোধ করা যেতে পারে।
এছাড়া অনেক সময় লেদা পোকার আক্রমণ দেখা যায় যদিও শীতকালে তা অনেকটা কম হয়।লেদা আক্রমণ যদি কম হয় তাহলে আক্রান্ত গাছ গুলো তুলে ফেলে দিতে হবে আর যদি আক্রমণ বেশি হয় তবে কীটনাশক ব্যাবহার করতে হবে ।সবচেয়ে ভালো হয় ঢেঁড়স ক্ষেতের মাঝে ধনিয়া বপন করলে এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
শীতকালে ঢেঁড়স গাছে .৫০ থেকে ৫৫ দিনে ফুল আসতে শুরু করে(শীতকালে ফুল-ফল আসতে একটু সময় বেশি লাগে) এবং শীতকালে আগাম ঢেঁড়স একটু ফলন কম হয়।
তবে হতাশার কিছু নেই শীতকালে আগাম ঢেঁড়স চাষে ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি বাজার পাওয়া যায় (মূল্য পাওয়া যায়)।

Post a Comment