বিসিএস(BCS) (প্রিলি, রিটেন ও ভাইভা) নিয়ে আমার কিছু কথা এবং পরামর্শ।

বিসিএস(BCS) (প্রিলি, রিটেন ও ভাইভা) নিয়ে আমার কিছু কথা এবং পরামর্শ।

আজকের শীর্ষ খবর ডেস্ক:


লেখকঃ আজাহারুল ইসলাম ৩৮তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার(ইংরেজি), মেরিট পজিশন-১০। (সুপারিশপ্রাপ্ত)

আমার এ পোস্ট শুধু নতুনদের জন্য যারা প্রথম বারের জন্য প্রিলি, রিটেন ও ভাইভা দিবেন। তিনটি ধাপ সম্পর্কেই আলোচনা করা আছে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পড়ে দেখতে পারেন। আপনারা যারা অভিজ্ঞ আছেন তারা চাইলে এড়িয়ে যেতে পারেন। ★★★প্রিলিমিনারি ধাপঃ ★একটা কথা মাথায় রাখবেন বিসিএসের সবচেয়ে কঠিন ধাপ হলো প্রিলিমিনারি। প্রায় পাঁচ লাখ 'ক্যান্ডিডেট'দের সাথে প্রতিযোগিতা করে আপনাকে টিকে থাকতে হবে দশ থেকে পনেরো হাজারের মধ্যে। এখানে অনেক 'ট্যালেন্টেড ক্যান্ডিডেট'রাও বাদ পড়ে যায়। অনেকে দেখি প্রিলিমিনারি পাস করেননি কখনো, তারাও রিটেনের জন্য ব্যাকুল হয়ে যান। কিন্তু আমি বলছি আপনারা রিটেন না পড়ে সকল বিষয়ে 'ব্যাসিক' জ্ঞানটা বাড়ান আর প্রিলি পড়েন। বিসিএসে 'ব্যাসিক' জ্ঞানটা খুব দরকার। প্রিলি উত্তীর্ণ হতে পারলে রিটেনের জন্য যে সময়টা পাবেন সেটা ভালোভাবে কাজে লাগান তাহলে আপনি সহজেই উৎরে যাবেন। আর প্রিলি উত্তীর্ণ হলে আপনার 'কনফিডেন্স' বেড়ে যাবে আর তাতেই আপনি রিটেনে ভালো করার জন্য যথেষ্ট সাহস পাবেন, আর এ সময়টা ভালো করে কাজে লাগতে পারলেই আপনি সফল! ★ আবার দেখছি অনেকে একগাদা বই কিনেন মানে একই বিষয়ের ৫-৬টা বই কিনে পড়েন আর সব তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। একাজ ভুলেও করবেন না, আপনার এতো বইয়ের দরকার নেই(তবে তথ্য যাচাইয়ের জন্য রাখতে পারেন)। আপনি 'সিলেবাস'টি ভলো করে বুঝে যেকোন সিরিজের (MP3/Professors/অ্যাসিওরেন্স/ওরাকল ইত্যাদি ইত্যাদি) বিষয়ভিত্তিক(সকল বিষয়ের) একসেট বই খুব ভালো করে পড়বেন এবং বারবার পড়বেন এতে তথ্যগুলো আপনার মাথায় গেঁথে থাকবে এবং আপনি এর সুফলও পাবেন, একবার পড়েই বলবেন না যে আপনার পড়া শেষ, তাহলে আপনিও শেষ হয়ে যাবেন কিন্তু! তবে হ্যাঁ, বাজারের বইগুলোতে (যেকোনো সিরিজের বইয়ে ৫%-১০% তথ্য ভুল থাকতে পারে) কোন তথ্য ভুল মনে হলে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য কোন সোর্স(যেমন: বাংলাপিডিয়া, বিশেষ জার্নাল, প্রখ্যাত লেখকদের বই ইত্যাদি ইত্যাদি) থেকে সেটাকে 'কারেকশন' করে নিতে হবে। চাইলে 'গুগলিং' করে অনেকগুলো তথ্যের সাথে তুলনা করে সঠিকটা খুঁজে নিতে পারেন। ★আর একটি ব্যাপার সাধারণ জ্ঞানের বিষয়টি কিন্তু খুব ঝামেলার, এটার জন্য আপনার অনেক আগে থেকেই পড়তে হবে, এবং খুব বেশি বেশি পড়তে হবে, যারা মনে করেন আমি এক মাসেই সব শেষ করে ফেলবো বিষয়টা তেমন না! সাধারণ জ্ঞানের বিষয়টি রপ্ত করার জন্য আপনাকে সময় দিতে হবে, তাই আপনি এখন যে সেমিষ্টার বা ইয়ারেই থাকুন না কেন, যদি সত্যিই বিসিএস ক্যাডার হওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে এখন থেকেই খেলাচ্ছলে সাধারণ জ্ঞানের উপর জোর দিতে থাকেন। কারণ বড় একটা অংশই সাধারণ জ্ঞানের। তবে 'ব্যাসিক' ভালো করার জন্য কোন 'কম্প্রোমাইজ' চলবে না। ★ অনেকেই(১ম বর্ষ/২য় বর্ষ/৩য় বর্ষ/৪র্থ বর্ষ) জিঙ্গাসা করেন ভাইয়া, কখন থেকে বিসিএসের জন্য পড়াশুনা শুরু করবো, এটার জন্য আমার একটাই উত্তর একটাই 'এখন' থেকেই শুরু করেন কারণ বিসিএসের প্রতি আপনার 'প্যাশন' জম্নেছে। তবে পড়া শুরু করার আগে সিলেবাস ও প্রশ্নব্যাংক 'অ্যানালাইসিস' করে শুরু করবেন। বিসিএসের পড়াশুনাটা এভাবে খেলাচ্ছলে এবং বিনোদন হিসেবেই শুরু করেন! আপনার যখন ডিপার্টমেন্টের পড়া ভালো লাগবে না, তখনই শুরু করবেন বিসিএসের পড়া! চলতে থাকুক না, ক্ষতি কি তাতে!? তবে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন ডিপার্টমেন্টের পড়াশুনা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়! ★ আর একটি বিষয় যেটা অনেকেই ভুল করে থাকেন, সেটা হলো বিসিএসের ফর্ম ফিলাপ করার সময় ক্যাডার চয়েস দিতে জানেন না! অনেকে না বুঝেই ক্যাডার চয়েসগুলো এলোমেলোভাবে দিয়ে ফেলেন এর ফলে নিজের পছন্দের ক্যাডার পান না এবং ভাইভা বোর্ডে অনেক অবান্তর প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকেন। মনে রাখবেন, আপনি যদি বোথ ক্যাডারে অ্যাপ্লাই করে থাকেন এবং জেনারেল ক্যাডারের প্রতি আবেগ বেশি থাকে তাহলে প্রথমে সকল জেনারেল ক্যাডার চয়েস দেওয়ার পর টেকনিক্যাল ক্যাডার চয়েস দিবেন। আপনার মনে রাখতে হবে, টেকনিক্যাল ক্যাডার চয়েস দেওয়ার পর যেসব জেনারেল ক্যাডার চয়েস দিবেন সেগুলো পাওয়ার সম্ভাবনা একদম নেই বললেই চলে! তাই আপনার যদি যেকোন ধরনের জেনারেল ক্যাডার পাওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি টেকনিক্যাল ক্যাডারকে সবার শেষে দিতে পারেন অথবা আপনার যে ৪/৫ টি জেনারেল ক্যাডার পছন্দ সেগুলো চয়েস দেওয়ার পরেই টেকনিক্যাল ক্যাডার চয়েস দিতে পারেন, এরপর বাকিগুলো। ক্রমানুযায়ী যেগুলো প্রথম সারির ক্যাডার(যেগুলো পেতে তুলনামূলক বেশি মার্কস লাগে) সেগুলো আপনি শেষে বা মাঝে দিবেন না, তাহলে স্যারেরা অবান্তর প্রশ্ন করতে পারে। ধরুন, আপনি বিসিএস ফরেন অ্যাপেয়ার ক্যাডার চয়েস দিছেন ৪ নাম্বারে আর বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা দিয়েছন ১ নাম্বারে। নিয়মানুযায়ী এটা ১ নাম্বারে দেওয়ার কথা কারণ এ ক্যাডারটি পেতে হলে তুলনামূলক বেশি মার্কসের দরকার হয়। তাই প্রথম সারির ক্যাডারগুলো প্রথমেই দিতে হবে আর প্রথমে না দিলে দেওয়ারই দরকার নেই। একটি (নমুনা) ক্যাডার চয়েস(জেনারেল/বোথ) আমি এখানে উল্লেখ করছিঃ ১ঃ বিসিএস ফরেন অ্যাফেয়ার্স ২ঃ বিসিএস প্রশাসন ৩ঃ বিসিএস পুলিশ ৪ঃ বিসিএস কাস্টমস ৪ঃ বিসিএস হিসাব ও নিরীক্ষা ৫ঃ বিসিএস কর ৬ঃ বিসিএস আনসার ৭ঃ বিসিএস তথ্য ৮ঃ বিসিএস রেলওয়ে ৯ঃ বিসিএস পোস্টাল ১০ঃ বিসিএস খাদ্য ১১ঃ বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা এবং বোথ ক্যাডারে অ্যাপ্লাই করে থাকলে, ১২ঃ বিসিএস টেকনিক্যাল ক্যাডার। মূল কথা হলো, আগে ভালোভাবে জেনে তারপর ক্যাডার চয়েস দিবেন।তবে শুধু টেকনিক্যালে আবেদন করলে শুধু একটাই চয়েস থাকে এখানে কোন ঝামেলা নেই। (বিঃদ্রঃ যারা বিভিন্ন কারণে ফরেন এবং পুলিশ বা অন্যকোন ক্যাডার চয়েস দিতে না চান তাহলে একেবারেই দেওয়ার দরকার নাই, কখনো এসব ক্যাডার শেষের দিকে দিবেন না কারণ এগুলো প্রথম সারির ক্যাডার, আর ভুল করে দিয়ে ফেললে উত্তর আগেই গুছিয়ে রাখবেন।) ★ প্রিলির জন্য প্রয়োজনীয় যেসব বইগুলো পড়তে পারেন তার একটি লিস্ট আমি আপনাদের জন্য পেশ করছি।

প্রথমেই প্রশ্ন ব্যাংক হতে ১০-৪০তম বিসিএসের সকল প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে বারবার পড়বেন এক্ষেত্রে কোন 'কম্প্রোমাইজ' করা যাবে না সাথে সিলেবাসটিও একটু দেখে নিবেন। ২ঃ বাংলা সাহিত্য (অগ্রদূত/MP3/অ্যাসিওরেন্স/প্রফেসর সিরিজের যেকোন একটি বই) পড়ুন। রেফারেন্স বইঃ লাল নীল দীপাবলি(হুমায়ন আজাদ), ভাষা ও জিজ্ঞসা(সৌমিত্র শেখর) বই দু'টি পড়ুন। ৩ঃ বাংলা ব্যকরণঃ অ্যাসিওরেন্স + সৌমিত্র শেখরের বই হতে ব্যাকরণ অংশটুকু পড়ুন। রেফারেন্স বইঃ ৯-১০ শ্রেণির বাংলা ব্যকরণ বইটি পড়ুন। ৪ঃ ইংরেজি ভাষাঃ 'মাস্টার' বইটি ভালো করে পড়ুন। ৫ঃ ইংরেজি সাহিত্যঃ 'মিরাকল' বইটি পড়ুন। ৬ঃ গনিতঃ প্রচলিত সিরিজের(শাহীন'স ম্যাথ/ প্রফেসর ম্যাথ) যেকোন একটি বই। রেফারেন্স বইঃ ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির সকল ম্যাথ বই এবং ১১-১২ ক্লাসের ম্যাথ বই হতে শুধু 'কম্বিনেশন' ও 'পার্মুটেশন' অংশ ভালোভাবে করুন। ৭ঃ মানসিক দক্ষতাঃ রিটেনের অ্যাসিওরেন্স(মানসিক দক্ষতা) বইটি পড়ুন, অন্য আর কোন বই লাগবে না। ৮ঃ কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তিঃ ইজি কম্পিউটার বইটি পড়ুন। রেফারেন্স বইঃ ১১-১২ শ্রেণির প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানের ICT বইটি পড়ুন । ৯ঃ সাধারণ বিজ্ঞানঃ MP3 দৈনন্দিন বিজ্ঞান/ ডঃ জামিল'স দৈনন্দিন বিজ্ঞান যেকোন একটি পড়ুন। রেফারেন্স বইঃ ৯-১০ শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান এবং পদার্থ, জীব ও রসায়ন বিজ্ঞান বইগুলো পড়ুন। ১০ঃ বাংলাদেশ বিষয়াবলিঃ MP3/ Professor সিরিজের যেকোন একটি বই পড়ুন। ১১ঃ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিঃ MP3/ Professor's সিরিজের যেকোন একটি বই পড়ুন। ১২ঃ নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনঃ প্রফেসর'স সিরিজের বইটি পড়ুন। রেফারেন্স বইঃ ১১-১২ ক্লাসের পৌরনীতি ১ম ও ২য় পত্র পড়ুন। ১৩ঃ ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাঃ অ্যাসিওরেন্স সিরিজের বইটি পড়ুন। রেফারেন্স বইঃ ৯-১০ ক্লাসের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বইটি পড়ুন। ১৪ঃ প্রফেসর'স এর জব সলুশন বইটি পড়ুন(প্রিলি পরীক্ষার দু' মাস আগে)। ১৫ঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ভালো করে বারবার পড়ুন তবে আগে শিরোনামগুলো মুখস্ত করতে ভুলবেন না। ১৫ঃ পত্রিকাঃ সাম্প্রতিক তথ্যের জন্য নিয়মিত পত্রিকা পড়ুন। ১৬ঃ সুযোগ থাকলে গ্রুপ স্ট্যাডি করুন। ১৭ঃ কোচিংয়ে বা বাসায় বসে মডেলটেস্ট পরীক্ষা দিন। আশা করি আপনি উপর্যুক্ত পরামর্শ ও বইগুলো পড়লে নিশ্চিতভাবে প্রিলিতে উত্তীর্ণ( ২০০ এর মাঝে সব মিলিয়ে ১২০ পেলেই সম্ভব) হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ্। ★★★লিখিত ধাপঃ আলহামদুলিল্লাহ্, আপনি যখন প্রিলি টিকে গেলেন তখন কিন্তু আপনার আর বসে থাকার সময় নেই। আপনি মনে করবেন না যে, প্রিলি টিকেই বিসিএস ক্যাডার হয়ে গেছেন, এখনো তা অনেক দূর! তাই, আপনাকে নেমে পড়তে হবে অদম্য গতিতে, যদি সেটা করতে পারেন তাহলে আপনি রিটেনেও উত্তীর্ণ হতে পারবেন। মনে রাখবেন রিটেনের মার্কস দিয়েই কিন্তু ক্যাডার নির্ধারিত হয়, সুতরাং এটা ভাবলেই হবে না যে, কোন রকম রিটেন পাস(৯০০ এর মাঝে সব মিলিয়ে ৪৫০ পেলেই) করলেই ক্যাডার হবেন। আসলে, রিটেনে যে ২০০০+ 'ক্যান্ডিডেট' বেশি মার্কস পাবে, তারাই ক্যাডার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে আর বাকিরা সবাই নন-ক্যাডার হওয়ার আশা করতে পারেন। প্রিলির রেজাল্টের পর আপনি যে সময় পাবেন সে সময়ে নিচের বইগুলি পড়তে পারলে আশা করি আপনি রিটেনেও উত্তীর্ণ হবেন। ★রিটেনের জন্য প্রয়োজনীয় বইঃ ১ঃ বাংলাঃ অ্যাসিওরেন্স সিরিজের বইটি পড়বেন, তবে অবশ্যই প্রিভিয়াস ইয়ারের রিটেন প্রশ্নগুলো আগে ভালোভাবে পড়ে নিবেন। সেটার জন্য আলাদা কোন বইয়ের দরকার নেই এ একই বইয়ে পাবেন।(গ্রন্থ সমালোচনাও একই বইতে আছে, কেউ চাইলে আলাদা কিনতে পারেন)। ২ঃ ইরেজিঃ অ্যাসিওরেন্স সিরিজের বইটি পড়বেন, তবে অবশ্যই প্রিভিয়াস ইয়ারের রিটেন প্রশ্নগুলো আগে ভালোভাবে পড়ে নিবেন। সেটার জন্য আলাদা কোন বইয়ের দরকার নেই এ একই বইয়ে পাবেন। ৩ঃ বাংলাদেশ বিষয়াবলিঃ অ্যাসিওরেন্স সিরিজের বইটি পড়বেন, তবে অবশ্যই প্রিভিয়াস ইয়ারের রিটেন প্রশ্নগুলো আগে ভালোভাবে পড়ে নিবেন। সেটার জন্য আলাদা কোন বইয়ের দরকার নেই এ একই বইয়ে পাবেন। ৪ঃ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিঃ অ্যাসিওরেন্স সিরিজের বইটি পড়বেন, তবে অবশ্যই প্রিভিয়াস ইয়ারের রিটেন প্রশ্নগুলো আগে ভালোভাবে পড়ে নিবেন। সেটার জন্য আলাদা কোন বইয়ের দরকার নেই এ একই বইয়ে পাবেন। ৫ঃ বিজ্ঞানঃ ওরাকল সিরিজের বইটি পড়বেন, তবে অবশ্যই প্রিভিয়াস ইয়ারের রিটেন প্রশ্নগুলো আগে ভালোভাবে পড়ে নিবেন। সেটার জন্য আলাদা কোন বইয়ের দরকার নেই এ একই বইয়ে পাবেন। সহায়ক বই হিসেবে ৯-১০ শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান এবং ১১-১২ শ্রেণির প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানের আইসিটি বইগুলো পড়তে পারেন। ৬ঃ গণিতঃ প্রফেসর'স সিরিজের বইটি ভালো করে করবেন এবং পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন সমাধান করতে ভুলবেন না। সাথে অবশ্যই ৯-১০ শ্রেণির সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত বই দুটি খুব ভালো করে করবেন এবং ১১-১২ শ্রেণির বই হতে স্থানাংক(সরলরেখা, ত্রিভুজ), সমাবেশ, বিন্যাস, সম্ভাবনা, অসমতা খুব ভালো করে করবেন। ৭ঃ মানসিক দক্ষতাঃ অ্যাসিওরেন্স সিরিজের বইটি পড়বেন, তবে অবশ্যই প্রিভিয়াস ইয়ারের রিটেন প্রশ্নগুলো আগে ভালোভাবে পড়ে নিবেন। সেটার জন্য আলাদা কোন বইয়ের দরকার নেই এ একই বইয়ে পাবেন। ৮ঃ সংবিধান টা অবশ্যই ভালো করে পড়বেন(এটা বাংলাদেশ বিষয়াবলির অংশ)। ৯ঃ সম্প্রতিক তথ্য, বাজেট ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা খুব ভালো করে পড়বেন। ১০ঃ পরীক্ষায় লেখার সময় ডাটা, কোটেশন, চার্ট, গ্রাফ, ম্যাপ ব্যবহার করুন এবং আপনার লেখাকে তথ্য সমৃদ্ধ করুন। ১১ঃ হাতের লেখা দ্রুত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ১২ঃ প্রতিটি পরীক্ষায় অবশ্যই পুরোপুরি উত্তর করে আসবেন আর সেজন্য বাসায় বা কোচিংয়ে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিবেন। এর কোন বিকল্প নেই। ১৩ঃ নিজ বিষয়(টেকনিক্যাল)ঃ আপনি যদি বোথ ক্যাডারে অ্যাপ্লাই করে থাকেন তাহলে আপনাকে জেনারেলের ৯০০ মার্কসের পরীক্ষা দেওয়ার পরও আপনার নিজ বিষয়ের উপর অতিরিক্ত ২০০ মার্কসের একটি পরীক্ষা দিতে হবে। আর এখানে আপনার টেকনিক্যাল ক্যাডারের হিসাবটা হবে একটু অন্য রকম অর্থাৎ জনারেল ক্যাডারের পরীক্ষার বিষয় বিজ্ঞান ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাদে বাকি ৭০০ মার্কস ও আপনার সাবজেক্টের(টেকনিক্যাল) ২০০ মার্কস|

১৩ঃ নিজ বিষয়(টেকনিক্যাল)ঃ আপনি যদি বোথ ক্যাডারে অ্যাপ্লাই করে থাকেন তাহলে আপনাকে জেনারেলের ৯০০ মার্কসের পরীক্ষা দেওয়ার পরও আপনার নিজ বিষয়ের উপর অতিরিক্ত ২০০ মার্কসের একটি পরীক্ষা দিতে হবে। আর এখানে আপনার টেকনিক্যাল ক্যাডারের হিসাবটা হবে একটু অন্য রকম অর্থাৎ জনারেল ক্যাডারের পরীক্ষার বিষয় বিজ্ঞান ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাদে বাকি ৭০০ মার্কস ও আপনার সাবজেক্টের(টেকনিক্যাল) ২০০ মার্কসের উপর অর্থাৎ মোট ৯০০ মার্কসের উপর। এ ৯০০ মার্কসের মাঝেও আপনি সব মিলিয়ে ৪৫০ বা ৪৫০+ পেলেই পাস করবেন। হ্যাঁ, এই ২০০ মার্কসের জন্য আপনার টেকনিক্যাল বিষয়ের বিসিএসের রিটেনের সিলেবাস দেখুন, সেখানে সব দেওয়া আছে, এর বাইরে অতিরিক্ত আর কিছু পড়তে হবে না। বাজারে আপনাদের নিজ নিজ টেকনিক্যাল বিষয়ের উপর বই পেতে পারেন আর যদি না পাওয়া যায় তাহলে আপনার অনার্স ও মাস্টার্সের পঠিত বিষয়গুলোর জন্য যেভাবে পড়েছিলেন, বিসিএসের রিটেনের টেকনিক্যাল বিষয়ের সিলেবাস দেখে ঠিক সেভাবেই পড়তে থাকুন। ।। (বিঃদ্রঃ রিটেনে কোন সাবজেক্টে ৩০% এর কম মার্কস পেলে সেই সাবজেক্টের মার্কস আর যোগ হবে না মানে আপনি শূন্য(০) পেয়েছেন ধরা হবে, তবে ৩০% এর বেশি পেলে আবার যোগ হবে কিন্তু পাস করতে হলে অবশ্যই ৫০% মার্কস লাগবে, যেটা আপনাকে অন্য কোন সাবজেক্ট দিয়ে পুষিয়ে দিতে হবে। তবে ঐ সাবজেক্ট ছাড়াও যেটায় আপনি ৩০% এর কম মার্কস পেয়েছেন মানে আপনি যে সাবজেক্টে শূন্য(০) পাবেন বলে ধরা হবে, সে সাবজেক্ট ছাড়াই যদি ৪৫০ বা ৪৫০+ মার্কস পায়ে যান তাহলেও পাস করবেন অর্থাৎ কোনভাবে ৫০% মার্কস পেলেই পাস করবেন)। আশাকরি আপনি উপর্যুক্ত রিটেন বিষয়ক কাজগুলো ভালোভাবে করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত মার্কস পেয়ে উত্তীর্ণ(৯০০ এর মাঝে সব মিলিয়ে ৪৫০+ পেয়ে) হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ্। ★★★ভাইভা ধাপঃ আলহামদুলিল্লাহ্ এতো কষ্ট করে আপনি রিটেন পাস করলেন আর ভাইভায় ভালো না করার কারণে আপনি যদি বাদ পড়ে যান মানে ভাইভায় ফেল করেন তাহলে আপনার পুরো কষ্টটাই ব্যর্থ। আপনার আর কোনও সম্ভাবনা নেই ক্যাডার বা নন-ক্যাডার জব পাওয়ার কারণ আপনি ফেল করেছেন! নন-ক্যাডার থেকেও কোন জব পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভাইভায় পাস করতে হবে। ভাইভায় মোট ২০০ মার্কস, এখানে আপনার আদব-কায়দা ও আচার-আচরণ খুব নিঁখুত ভাবে লক্ষ করা হয়। আপনি কিছু না পারলেও আপনার আচরণে যদি অশালীনতা না থাকে তাহলে আপনাকে স্যাররা ফেল করাবেন না(পাস মার্কস ১০০ সবাই পেয়ে যায়)। ★ভাইভায় যে বিষয়গুলো করবেন ও করবেন না! ১। রুমে ঢোকার সময় অবশ্যই অনুমতি নিয়ে ঢুকবেন এবং ভিতরে প্রবেশ করার পর দরজা আস্তে করে বন্ধ করবেন, খেয়াল রাখবেন কোন ধরনের শব্দ যাতে না হয়। দরজা বন্ধ করার পর চেয়ারের কাছাকাছি গিয়ে সালাম দিবেন, এরপর স্যারেরা বসতে বললে বলবেন নতুবা বসবেন না! ২ঃ ছেলেরা স্যুট-কোর্ট, টাই, অক্সফোর্ড শু পরবেন আর মেয়েরা মার্জিত কালারের শাড়ী, ফুল হাতা ব্লাউজ ও মার্জিত জুতা(হাই হিল না) পরিধান করবেন। আশালীন বা অমার্জিত পোশাক পরিধান করবেন না এবং মেয়েরা অতিরিক্ত গহনা পরবেন না। ৩ঃ যথা সম্ভব হাসিখুশি ও আত্নবিশ্বাসী থাকবেন কোন প্রশ্নের উত্তর না পারলে মৃদু হাসি দিয়ে 'সরি ' বলুন। ৪ঃ মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করবেন না, না জানা থাকলে জানার ভাণ করবেন না। ৫ঃ কোন বিষয় নিয়ে স্যারদের সাথে তর্ক করা যাবে না। ৬ঃ চেয়ারে ডানদিক দিয়ে গিয়ে বসবেন এবং ভাইভা শেষে বামদিক দিয়ে উঠে আসবেন। ৭ঃ উঠার পরে আপনি পিছনের দিকে ৪-৫ কদম হাঁটবেন কখনোই চেয়ার থেকে উঠে স্যারদের দিকে পেছনের দিক দেখাবেন না এতে তারা 'মাইন্ড' করতে পারেন। এরপর একটু দাঁড়িয়ে স্যারদের সালাম দিয়ে ঘুরে দরজার দিকে হাঁটবেন। দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় স্যারদের দিকে মুখ করে মাথা নত করে সালাম দিয়ে বের হবেন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে কোন ধরনের শব্দ না হয়। আপনি বের হয়ে দরজাটা সুন্দরভাবে নিঃশব্দে আটকে দিবেন। ৮ঃ মনে রাখবেন পুশ করে ঢুকবেন এবং পুল করে বের হবেন। ৯ঃ হাঁটার সময় যেন জোরে শব্দ না হয়। ১০ঃ কথা বলার সময় যথাসম্ভব অাঞ্চলিকতা বাদ দিতে হবে। ১১ঃ হাত-পা নাড়িয়ে কথা বলা যাবে না। এগুলো আগেই ঠিক করে নিতে হবে। ১২ঃ আই-কন্টাক ঠিক রেখে কথা বলতে হবে, যখন যে স্যার প্রশ্ন করবেন তখন সে স্যারের দিকে তাকিয়ে তার প্রশ্নের উত্তর দিবেন। ১৩ঃ ভাইভার কমন বিষয়(ব্যক্তিগত) ও প্রশ্নগুলোর উত্তর একটু স্মার্টলি ও ব্যতিক্রমভাবে শিখে মুখস্ত করে গেলে মন্দ হয় না! ১৪ঃ আপনাকে অবশ্যই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্র্যাক্টিস করতে হবে এবং বেশি বেশি মক ভাইভা দিতে হবে। মনে রাখবেন আপনি যত প্র্যাক্টিস ও মক ভাইভা দিবেন আপনি তত অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। ১৫ঃ নিজেকে পরিপাটি রাখার জন্য পকেটে/ভ্যানিটি ব্যাগে ছোট চিরুনি, ছোট আয়না, ও লিপজেল জাতীয় কিছু রাখুন। আসলে আপনাকে ভাইভায় ভালো করার জন্য অবশ্যই এসব শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। ★এবার আসি ভাইভায় কি কি বই পড়বেনঃ ১ঃ আপনি প্রথমেই নিজ কেন্দ্রিক বিষয়গুলো খুব ভালো করে পড়বেন ওয়েবপোর্টাল বা তথ্য বাতায়ন থেকে। যেমনঃ নিজের পারিবারিক ইতিহাস, নিজের জেলা, নিজের উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম ইত্যাদি, ইত্যাদি। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য নির্ভর প্রতিটি জেলার বই পাওয়া যায়, সবাই তার নিজের জেলার বইটি কিনে নিতে পারেন। ২ঃ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও শেষ ক্যাডার চয়েস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাবেন। আর মৌলিক দু'চারটি প্রশ্ন সবগুলো চয়েস সম্পর্কেই জেনে যাবেন। বিসিএস ভাইভা পররাষ্ট্র, বিসিএস ভাইভা প্রশাসন, বিসিএস ভাইভা পুলিশ এরকম অনেক বই বাজারে পাওয়া যায়, আপনার চয়েস অনুযায়ী আপনি কিনে নিতে পারেন। ৩ঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইগুলি যতগুলো সম্ভব পড়বেন। তিন চারটে সিরিজের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই পড়বেন। সাথে রেফারেন্স বইও পড়বেন। যাতে উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে আপনি রেফারেন্স হিসেবে সেগুলোর নাম বলতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় এ তথ্য আপনি কোথায় পেলেন, তাহলে আপনি কোন বাজারের বইয়ের নাম বলবেন না, এতে স্যারেরা আপনার প্রতি অখুশি হতে পারেন। তাই তথ্য যাচাইয়ের জন্য সর্বদা নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স বই ব্যবহার করুন।

৪ঃ বিভিন্ন সিরিজের ভাইভার বই বাজারে পাওয়া যায়। আপনি চাইলে তার কয়েকটা বই আপনার সংগ্রহে রাখতে পারেন, তাতে তথ্য যাচাইয়ে আপনার সুবিধা হবে। ৫ঃ রেফারেন্স বই হিসেবে যেগুলো আপনাকে অবশ্যই পড়তে হবে সেগুলো হলোঃ- অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা, নয়া চীন ভ্রমন, একাত্তরের দিনগুলি, একাত্তরের দিনলিপি, শেখ মুজিব আমার পিতা, রেইপ অব বাংলাদেশ, মূলধারা ৭১, রক্তের ঋণ, ১৯৭১, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইটে দেওয়া তথ্য ইত্যাদি ইত্যাদি। ৬ঃ সাম্প্রতিক তথ্যের উপর খুব গুরুত্ব দিতে হবে। ভাইভাতে সম্প্রতিক ঘটনার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়। ৭ঃ আপনার নিজ বিষয়ের উপর বিস্তারিত ও গভীর ধারণা রাখুন, কারণ আপনার নিজ বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর না পারলে স্যাররা সাধারণত খুব 'মাইন্ড' করে থাকেন, অনেক সময় ফেল করানোর মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায় এটা। স্যারেরা মাঝে মাঝে ঝাড়ি দিয়ে বলে, "আপনি ৫+ বছর অনার্স-মাস্টার্সে কি পড়ছেন, আপনি আপনার বিষয় সম্পর্কে তো কিছুই জানেন না!" তাই, বলছি নিজ বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিন ও ভালোভাবে পড়ুন। ভাইভা বিষয়ক উপর্যুক্ত কাজগুলি আপনি ঠিকমত করতে পারলে আল্লাহ্র রহমতে আপনি ভাইভায় উত্তীর্ণ (২০০ এর মাঝে ১৩০+/১৪০+ পেয়ে) হয়ে আপনার পছন্দের ক্যাডারে মনোনীত হবেন। অনাকাঙ্ক্ষিত বানান ভুল হয়ে থাকলে নিজগুণে ক্ষমা করে দিবেন। আপনার জন্য শুভ কামনা, আপনাকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে অগ্রিম শুভেচ্ছা।।

তথ্য সংগ্রহে: মো: জাহিদুল ইসলাম রনি
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি

Post a Comment

[blogger]

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Theme images by RBFried. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget