নালিতাবাড়ীতে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর স্বাক্ষর জালিয়াতি, দুই সুপারের বিরুদ্ধে মামলা

নালিতাবাড়ীতে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর স্বাক্ষর জালিয়াতি, দুই সুপারের বিরুদ্ধে মামলা


আজকের শীর্ষ খবর ডেস্ক: 



হারুনুর রশিদ শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সাবেক কৃষিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শেরপুর-২ (নকলা- নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। গোপনে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় দুই মাদরাসা সুপার কর্তৃক এ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। জালিয়াতির ঘটনায় নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার সূর্যনগর গাগলাজানি দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেন্ডেন্ট মাওলানা রফিকুল ইসলাম চলতি জুলাই মাসে তার পছন্দের লোকেদের দিয়ে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে একটি প্রস্তাবিত কমিটি দাখিল করেন। প্রস্তাবিত ওই তালিকায় সুপারিশকারী হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর অগোচরে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।অন্যদিকে, একই কায়দায় যোগসাজশ করে উপজেলার কালাকুড়া দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেন্ডেন্ট মাওলানা নুরুল ইসলামও গোপনে পকেট কমিটি গঠনকল্পে স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন। তবে উভয়ের এ দূরভিসন্ধি ঘটনাক্রমে প্রকাশ হয়ে পড়লে সূর্যনগর গাগলাজানি দাখিল মাদরাসার প্রস্তাবিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সামেদুল হক এবং কালাকুড়া দাখিল মাদরাসা প্রস্তাবিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৫ জুলাই মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। সুর্যনগর গাগলাজানি দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠা মৃত রহিজ উদ্দিন মাস্টারের ছেলে আব্দুর রহিমসহ মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মানুযায়ী দাখিল পর্যায়ের মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে পদাধিকার বলে দায়িত্বে থাকেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তাকে এখানে সভাপতি করলে ভারপ্রাপ্ত সুপার দুর্নীতি ও অনিয়ম করতে পারবেন না। এ কারণে তিনি তার পছন্দমতো ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করতে চান।তারা আরও জানান, স্থানীয় কাউকে সভাপতি করতে হলে স্থানীয় এমপির সুপারিশ লাগে। এক্ষেত্রে স্থানীয় এমপি মতিয়া চৌধুরী ওই সুপারিশ করবেন না বলে ভারপ্রাপ্ত সুপার রফিকুল ইসলাম ওরফে সাদা দ্বিতীয় বারের মতো মতিয়া আপার মতো একজন বড় নেত্রীর স্বাক্ষর জাল করেছেন। এসময় তারা এতবড় ধৃষ্টতার জন্য জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত সকলের কঠোর শাস্তির দাবী জানান।মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহুরুল হক জানান, আসামীরা আত্মপোগনে রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। অন্য কেউ এর সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে একইভাবে মতিয়া চৌধুরীর স্বাক্ষর জাল করে পুলিশি রিমান্ড ছাড়াও হাজতবাস করে সুর্যনগর গাগলাজানি দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার রফিকুল ইসলাম।

Post a Comment

[blogger]

MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Theme images by RBFried. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget