স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই।থাকেন নদীর পাশে ছোট্ট একটা ঘরে।আইলা/সিডার, বুলবুল/ফনী সব মহামারী ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংস লীলা দেখেছেন। তার জীবনের প্রতিটি পারতে যেনো দুঃখের ছোয়া।এমন দুঃখী মানুষ আমি খুব কম দেখেছি।
তারপরও জীবন নিয়ে কোন আফসোস নেই, কেউ দিলে খান, অথবা না দিলে/না খেয়ে-ই আল্লাহ/আল্লাহ করে কাটে জীবন। ঈদের দিন উনাকে গোসত দিয়ে আসছিলাম,সেদিন আমাদের অনেক কাজ থাকার কারণে গোসতের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার পৌঁছে দিতে পারিনি। তাই আজ গিয়েছিলাম বাজার নিয়ে কারণ উনার বাসায় রান্না করে খাওয়ার মত বাজার নেই,যা ছিলো আমাদের দেওয়া তাও শেষ।
বাজার দিয়ে চলে আসবো,এমন সময় দেখি দড়ি বেঁধে কি যেনো আটকানো, জিজ্ঞেস করতেই বলে বাবা আন্নের দেওয়া গোসত। বললাম খাননি? কিছু রান্দিছি, বিদবা নাতনীর জন্য।আর এহানরাখছি।
কেনো রাখছেন? আমার নাতনীর একটা ছোট্ট বাচ্চা আছে, অতী যদি কখনো খাইতে চাই,আমরা কইতে পাবো। বচ্ছরে একবার-ই তো পাই, তাই রাইখা দিছি।আমরা উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতি পরিবারে ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি করে গোসত দেই, উনাকে হয়তো আটশো গ্রাম দিয়েছিলাম, অথচ ভাবতেই পারিনি।উনি সেখান থেকে মাত্র দুই/তিন পিছ রান্না করে নাতনী আর তার মেয়েকে খেতে দিয়ে বাকিটা শুকিয়ে রেখে দিবেন।
ভাবতে পারেন অভাব একটা মানুষকে কত অসহায় ভাবে ভাবতে শিখিয়েছে? ভাবতে পারে এই মানুষগুলো ঠিক কতটা অসহায়? কিভাবে টিকে থাকে নানান প্রতিকূলতায়।আপনাদের বাসায় ফ্রিজ আছে যাদের ছিলোনা তারা কোরবানির গরুর সাথে ফ্রিজও কিনেছেন।কারণ স্বভাবত কারণে গোসত রেখে দিবেন তাই, কিন্তু উনাদের অভাবী ঘরে ফ্রিজ নাই। ফ্রিজের ব্যাপারটা উনারা স্বপ্নেও ভাবেন না।
তাই অনেক সামর্থ্য থাকার পরেও স্বভাবের কারণে আপনারা যেই গোসত ফ্রিজে রেখে দেন, ঠিক তার উল্টো পিঠে অভাবের কারণে এই মানুষ গুলো বছরে একবার দানের পাওয়া গোসত শুকিয়ে রেখে দেয়।
এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্যর সাক্ষী হবো,কখনো ভাবিনি।কারণ আমি এর আগে এমন দৃশ্য চোখে দেখিনি।
আজকের শীর্ষ খবর ডেস্ক:

Post a Comment