আজকের শীর্ষ খবর ডেস্ক:
করোনা ভাইরাসের সংক্রামনের মধ্যেও প্রশাসন উপজেলাকে লক ডাউন ঘোষণা করলেও থেমে নেই জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে মীম আক্তার নামে এক কিশোরী ৪ দিন থেকে অনশন করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়ের রায়দের পাড়া(ক্ষ্যান্তর মোড়) এলাকার প্রেমিক বাবু মিয়ার বাড়িতে । শনিবার তিন গ্রামের উৎসুক জনতার ভীড় লক্ষ করা গেছে।
স্থানীয় ও অনশনে থাকা মীমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের রায়দেরপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে বাবু মিয়ার সাথে একই গ্রামের আব্দুল খালেকের কন্যা মীম আক্তারের সাথে ২ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। ওই সম্পর্কের জের ধরে দু’জনের মাঝে শাররীক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি মীম এর পরিবার জানতে পেরে স্থানীয় মাতাব্বরগনকে জানায়।
অন্যদিকে বিষয়টি ধামা-চাপা দেয়ার জন্য মীমের পরিবারের নিকট বাবুর সাথে বিয়ে পড়ানোর আশ্বাস দেয় বাবুর পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে মীমের পরিবার বিয়ে পড়ানোর দাবী করলেও বাবুর পরিবার কালক্ষেপন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত থেকে বিয়ের দাবিতে বাবুর বাড়িতে অনশনে রয়েছে মীম আক্তার(১৮)। মীমকে অনশনে রেখে গা ঢাকা দিয়েছে প্রেমিক বাবু মিয়া।
এ বিষয় নিয়ে এলাকার মাতাব্বর ফরিদ মিয়া,আব্বাস,লিটন,মজনু মিয়া,খোকা মিয়া,রফিকুল ইসলাম.মন্টু মিয়া দফায় দফায় গ্রাম্য সালিশ করেও এর কোন সুরাহা দিতে পারেনি। ফলে দুটি পরিবারের মধ্যে হতাশা বিরাজসহ এলাকার নানা সমালোচনার ঝড় বইছে।
অনশনে থাকা প্রেমিকা মীম আক্তার জানায়, “আমাদের দু’জনের শাররীক সম্পর্কে হারুণের স্ত্রী সফুরা আক্তার সহযোগীতা করেছে। আমার সাথে বাবুর বিয়ে না দেয়ায় বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বিয়ের দাবিতে বাবুর বাড়িতে অনশনে আছি।বাবু মিয়া আমার সব কিছু শেষ করেছে। আমাকে কে বিয়ে করবে এখন।এ মুখ কাউকে দেখাতে পারবো না। তাই বাবুকে বিয়ে না করে আমি বাড়ী ফিরে যাব না। মরতে হলে বাবুর বাড়ীতেই মরব”।
এ ব্যাপারে মীমের পিতা আব্দুল খালেক বলেন, “বাবুর বাড়ীতে বিয়ের দাবীতে অবস্থান করায় আমার মেয়ে মীমকে বাবুর ভাবী ছফুরা ও বোন জুলেখা আমার মেয়েকে বাড়ী থেকে সরানোর জন্য মারপিটসহ বিভিন্ন ভাবে মানষিক নির্যাতন করছে। আমরা গরিব হওয়ায় দফায় দফায় দরবার সালীশ হলেও সঠিক বিচার পাচ্ছি না ”।
অভিযুক্ত বাবু মিয়ার ভাবী ছফুরা আক্তার জানান, বাবু কোথায় যেন গেছে। তাকে আমরা খুজে পাচ্ছিনা। তাই মীম এর সাথে বিয়েও করাতে পারছিনা।
ডোয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন রতন বলেন,“মীম নামে মেয়েটি বাবুর বাড়ীতে অনশনে রয়েছে। বাবুকে অন্যত্র বিয়ে করানোর চেষ্টাও চলছে।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান এর নিকট মোবাইল ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন,এ বিষয়টি দেখছি।
সূত্র: জামালপুর লাইভ

Post a Comment
Good