গার্মেন্টসের রানি কথন
খায়রুল বাশার তরফদার
সেনপাড়া পর্বতা,
মিরপুর, ঢাকা
আশি টাকা বাবার রোজে চলেনাতো সংসার
মুখ আছে চারটে একটাই রোজগার।
গার্মেন্টসে কাজে নেয় আঠারো পেরুলেই
সতেরোর রানি ছিল অপেক্ষার বছরেই।
কাজে এসেই পরে রানি কতো কতো নজরের
বছর বছর পার করে হাসি ঠাট্টা আর ভাব নিয়ে
সকলের।
উনিশেই হাসি ফেরে রানির ঘরেতে
ছোট বোন অরুনা নিয়মিত পড়াতে।
রানি ওকে নেবেনাতো গার্মেন্টসের কাজেতে
বড় হয়ে থাকবে সে মানুষের সেবাতে।
রোজে গেলেও মাঝে মাঝে থাকে বাবা আয়েশে
পেট রোজ কাঁদে নাতো খাবারের প্রয়াসে।
ভালো মতই চলছিল মনু মিয়ার সংসার
রানি তাকে বানিয়েছে আধা বিঘার জমিদার।
চার চালা ঘর তাঁদের চৌকাঠ দরজার
জি পি এ ফাইভটা এখন অরুনার অলংকার।
গার্মেন্টসে হয়েছে তার দশ বছর চাকরী
শরীর আর চলেনা বাবার রোজটাকে আঁকড়ি।
এমন রানিদের শ্রমে–ঘামে গার্মেন্টস হয়েছে
বড় শিল্প
মালিক, শ্রমিক, দেশ বুনেছে অর্থনৈতিক জীবনের
রুপকল্প।
গার্মেন্টস, স্বামী-সন্তান, বাবা-মা, শ্বশুর
বাড়ি আর বোনের কলেজ
একসাথে ভাবতে গেলেও কখনো উল্টে যেতনা রানির
স্বাধীন নলেজ।
হঠাৎ বিশ্বব্যাপী
কভিড-১৯ এর আঘাত
করেছে সব ঘরবন্দি আর কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত।
কোথাও ব্যাবসা নেই, বাণিজ্য নেই, হতভম্ব
মালিকদের কারখানা সব বন্ধ,
শ্রমিক নয়, বিবেক নয়, জীবন নয় বাইয়াররা লাভ-লোকসানের
বৃত্তেই থাকল অন্ধ।
যারা শত শত কোটি ডলার খরচ করিয়েছে কমপ্লাইয়ান্সের
ধুঁয়া তুলে
কিভাবে তারা মানবাধিকার, কমিটমেন্ট আর শ্রমিকদের
কথা গেলো ভুলে!
মানবিক সরকারী প্রণোদনায় হোল তবু বেতনের
একটা কুল
ঈদ বোনাসের সাথে পেল প্রথম মাসে ষাট পার্সেন্ট
আর পরের মাসে ফুল।
পরের মাসের বেতনও নাকি সরকারই তাঁদের দিবে
ছাটাইয়ের ঘোষণা কেন তবে রানির ভাবনায় নাহি
আসে।
মালিক জানে বেতন ছাড়া আরও কতো খরচ তাঁদের
আছে
কেউ বুঝেনা, ঘুম আসেনা স্টক লট আর পেয়াবল
এর চাপে।
ছাটাইয়ের কবলে পরেছে রানি আর তার স্বামী
জামিল
এমন অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে কতো প্রশ্ন-উত্তরের
অমিল।
ভিনদেশি করোনা কতো দেশে কতো পরীক্ষা দিয়ে
কতো পরে এলো এদেশে
এতো প্রস্তুতি, এতো প্রতিশ্রুতি কি তবে নিস্ফল
করোনার কাছে?
তাদের আয় কেন বন্ধ? তারা এখন কি করবে?
সারা দেশের দিনমজুর, তাদের পুরো সংসার চলবে
কিভাবে?
এভাবে আর কতো দিন? তারা করোনা থেকে বাঁচবে
তো?
অন্ধকার পথ বেছে নিলে কি আর ফিরতে পারবে?
সেই সুযোগও কম, আবার সেখানেও যদি সবাই আসে?
এতোসব, আরও সব কতো প্রশ্নের জন্য কে দায়ী?
সে নিজে, মালিক, শ্রমিক, সমাজ, সরকার, প্রকৃতি
?
হঠাৎ করেই পাওয়া
ত্রান আর ছাটাই নিয়মে পাওয়া বেতন
আরও দু মাস চলার নিশ্চয়তায় দুর্বিশ্বাসে
ফিরল তাদের চেতন।
চাকরী খোঁজা নয়, প্রতিবাদ নয়, কারো সঙ্গ
নয়, এখন নিরাপদ থাকাই হল তাদের প্রত্যয়
আশা তাদের এই সময়েই বিশ্ব ফিরবে বাণিজ্যে,
গার্মেন্টসেই আবার ফিরে পাবে ভরষার আশ্রয়।