২০১৮ সালের ২০ জুন জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থানাধীন কুলপাল চরের যমুনা নদীর পশ্চিম কিনারায় ২৪ বৎসর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয় এক মহিলার লাশ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে অপমৃত্যু মামলা নং-০৮/২০১৮, তাং ২১/০ ৬/২০১৮ রুজু হয়। পরবর্তীতে ময়না তদন্তে শ্বাসরোধে হত্যার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা রুজু হয় (মামলা নং-১৩(৭)১৮)। মামলাটি ০৫ মাস থানা পুলিশ তদন্ত করার পরে রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয়।
সিআইডি তদন্ত প্রাপ্ত হয়ে অজ্ঞাতনামা ভিকটিমের পরিচয় উদঘাটনের লক্ষে নদীর স্রোতের উজানে কোন মহিলার নিখোঁজ জিডি বা এ জাতীয় কোন মামলা আছে কি-না তা খোঁজ করেন। এর প্রেক্ষিতে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার একটি মামলা কে চিহিৃত করা হয় (মামলা নং-৪(৭)১৮)। এই মামলাটিতে বাদী তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য মারপিট ও হত্যার জন্য স্বামী ও অন্যান্যদের আসামী করে মামলা করে। তাছাড়া এই মামলাটির ঘটনার সময় তদন্তাধীন মামলার ঘটনার কাছাকাছি সময়ে ছিল বলে সিআইডি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় কাজিপুর থানার মামলার বাদী আসামী পক্ষের সাথে আপোষ মিমাংসা করে ফেলায় থানা পুলিশ তদন্ত শেষে এফআরটি দেয়।
এদিকে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা সরিষাবাড়ী থানার মামলার ভিকটিমের ডিএনএর সাথে কাজিপুরের মামলার বাদীর ডিএনএর সাথে ম্যাচ করিয়ে ভিকটিমের পরিচয় উদঘাটন করে। জানা যায় যে, ভিকটিমের নাম পারুল খাতুন, সে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার পারখুকশিয়া গ্রামের মধু শেথ এর মেয়ে। এর প্রেক্ষিতে সিআইডি প্রযুক্তির সহায়তায় গত ২২/০৬/২০২০ তারিখে ভিকটিমের স্বামী আমির হোসেন (৩৫) কে গাজীপুর কোনাবাড়ী হতে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় হত্যার দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়।
মোঃ জাহিদুল ইসলাম, জামালপুর প্রতিনিধি।

Post a Comment