
মোঃ হাতেম আলী ঃ যুদ্ধের সময় একদিন বিহাল বেলা রেজু রাজাকার আমার বাড়িত আইয়া আমারে কইল, তোমার স্বামীরে মিলিটারীরা মাইরালবার লাইগা লগু মড়লের বাড়িত আটকাইয়া রাখছে । তুমি ঐখানে গেলেই তোমার স্বামীরে ছাইড়া দিব । এই কথা হুইন্না আমি লগে লগেই দৌড়াইয়া ঐ বাড়িত গেলাম । ঐ বাড়িত যাওয়ার পর আমারে জোর কইরা একটা ঘরের মধ্যে লইয়া গেল । তারপর ৬-৭ জন লোক পর পর আমার উপর যে কি নির্যাতন করল তা আপনেগরে আর কি কমু । দেহেন এহনও আমার শইল্লে বদমাইশগুলার কামড়ের দাগ আছে । এমন লোমহর্ষক বর্ননা দিতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন হালুয়াঘাট উত্তর বাজারের হাজেরা খাতুন (৬৫) ।
১৯৭১ সালে উপজেলার সীমান্তবর্তী পূর্ব গোবরাকুড়া গ্রামের গনশহীদ মন্তাজ আলীর স্ত্রী হাজেরা খাতুন লগু মড়লের বাড়ি অজ্ঞান আবস্থায় পড়ে আছে জানতে পেয়ে, তার স্বামীর বন্ধু রিক্সাচালক নুর ইসলাম তাকে হালুয়াঘাট সদর হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলেন । পরবর্তীতে হাজেরাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে অদ্যবধি সংসার করে যাচ্ছেন তিনি। অভাবের সংসার সারাদিনে দু-বেলা ভাত জুটেনা । অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতে হয় । ঘরে অসুস্থ স¦ামী নিয়ে অসহায় দিন যাপন করছেন হাজেরা ।
এতদিন সমাজ সংসারের কথা ভেবে লজ্জায় কারো কাছে এসব কথা না বললেও সরকার এসকল মহীয়সী নারীদের বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি দিয়ে আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে জেনে সংসারের অভাব ঘুচাতেই বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি চান হাজেরা । বীরাঙ্গনা কি তা হাজেরা জানেনা, তবে এটা জানে এর স্বীকৃতি পেলে সরকারীভাবে মাসে মাসে টাকা পাওয়া যায় । তাই জীবনের শেষপ্রান্তে এসে বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি চান তিনি । এব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম বেগ জানান, উপজেলার ৬ জন মহীয়সী নারীকে বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি দিয়ে সরকারী সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে এবং হাজেরার আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।
সূত্র: পূর্বে প্রকাশিত দৈনিক হালুয়াঘাট
Post a Comment